ঢাকাশুক্রবার, ৯ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অস্ত্র খালাস করতে যাওয়ার সময় জিয়াউর রহমান আগ্রাবাদে জনরোষে পড়ে

পরম বাংলাদেশ ডেস্ক
মার্চ ২৪, ২০২১ ১২:০৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

চট্টগ্রাম: ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে নিরস্ত্র বাঙালিকে নিধনের জন্য পশ্চিমা হানাদার বাহিনী অস্ত্র ও গোলাবারুদ ভর্তি সোয়াত জাহাজ বন্দরের ১৭ নম্বর জেটি ঘাট এলাকায় নোঙ্গর করেছিল। ২৪ মার্চ সেই সোয়াত জাহাজ থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ খালাস করা হবে- এমন পরিকল্পনার খবর পেয়ে চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে লাখো জনতা সে দিন প্রতিরোধ গড়ে তোলে। জন প্রতিরোধের মুখে পড়ে সে দিন সোয়াত জাহাজ থেকে অস্ত্র-গোলাবারুদ খালাস ভন্ডুল হয়ে যায়। সেই সোয়াত জাহাজ প্রতিরোধের স্মৃতিকে নতুন প্রজন্মের মাঝে জাগরুক রাখার প্রত্যয়ে ১৭ নম্বর জেটি ঘাট এলাকায় একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সোয়াত জাহাজ প্রতিরোধ দিবস উদযাপন পরিষদ। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট পরিষদকে সর্বাত্মক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ।

বুধবার (২৪ মার্চ) দুপুরে সোয়াত জাহাজ প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে নিউমুরিং এমপিবি গেইটস্থ একটি কমিউনিটি সেন্টারে সোয়াত জাহাজ প্রতিরোধ দিবস উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন সোয়াত জাহাজ প্রতিরোধ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণে নগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সার্বিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।

সভায় আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‌সোয়াত জাহাজ অস্ত্র খালাস প্রতিরোধ করতে সে দিন লাখো বাঙ্গালি জেটি ঘাট থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সড়কে ব্যারিকেড সৃষ্টি করেছিল। সে দিন জেটি ঘাটে প্রতিরোধকারী অনেক নিরস্ত্র বাঙালি পাকিস্তানি সেনার হাতে নিহত হন। অনেকেই গুরুতর আহত হন। অস্ত্র খালাস করতে যাওয়ার সময় জিয়াউর রহমান ও তার বাহিনী আগ্রাবাদ এলাকায় জনরোষের মুখে পড়ে। এ সোয়াত জাহাজ প্রতিরোধে সফলতার মধ্য দিয়ে সে দিন রচিত হয়েছিল অনন্য এক বিজয়। যা পরবর্তী মুক্তিযুদ্ধের বিজয় অর্জনে প্রেরণা যুগিয়েছিল। সে দিনের সেই স্মৃতি প্রজন্মের কাছে জাগরুক করে রাখার লক্ষ্যে ১৭ নম্বর জেটি ঘাটে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সোয়াত জাহাজ প্রতিরোধ দিবস উদযাপন পরিষদ। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে নগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হবে। তাছাড়া প্রয়োজনীয় সার্বিক সহায়তা প্রদানে নগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সব সহায়তা দেওয়া হবে।’

তিনি আয়োজক পরিষদকে সোয়াত জাহাজ প্রতিরোধকারীদের সাক্ষ্য, প্রমাণ ও বর্ণনা নিয়ে একটি স্মারক গ্রন্থ প্রকাশের উদ্যোগ নেয়ার পরামর্শ প্রদান করেন।

সোয়াত জাহাজ প্রতিরোধ দিবস উদযাপন পরিষদের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা হাজী হারুন উর রশিদের সভাপতিত্বে ও মুক্তিযোদ্ধা এসএম আবু তাহেরের সঞ্চালনায় আলোচনায় সভায় কেন্দ্রীয় শ্রমিক লীগ সহসভাপতি শফর আলী, মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের, প্রকৌশলী কামরুল হাসান বুলু, রোটারিয়ান মো. ইলিয়াস, বীর মুক্তিযোদ্ধা এটিএম শামসুল আলম, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা সুলতান নাছির উদ্দিন, আকবর হোসেন কবি, হাজী মো. ইলিয়াছ, মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল তক মানিক, মো. আসলাম, মো. হাসান মুরাদ, মো. হাসান, মো. নুরুল আলম, মো. সেলিম, যুবলীগ নেতা মো. মাইনুদ্দিন, আবদুল হাকিম মেম্বার, শারমিন সুলতানা ফারুক, মো. আবু বক্কর সিদ্দিক, মো. মামুনুজ্জামান, রুমানা আক্তার রুমা, মো. জাবের, মো. ইলিয়াছ, মো. হারুন, মো আবদুর রউফ, সেলিম আফজল, মো. সালাউদ্দিন, আজাদ হোসেন রাসেল, জাবেদ হোসেন, মো. জাহেদ হোসেন বক্তব্য রাখেন।

প্রেস বার্তা

Facebook Comments Box