সোমবার, ০৪ জুলাই ২০২২, ১২:১৭ পূর্বাহ্ন

অর্ধ-যুগ পূর্তিতে কণ্ঠনীড়ের আয়োজন ‘আমরা করবো জয়’

পরম বাংলাদেশ
  • প্রকাশ : রবিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২০
  • ২৯৬ Time View

চট্টগ্রাম: ‘করোনা একটা নতুন পৃথিবীর সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো আমাদের। বৈশ্বিক এ মহামারী ভিন্ন ভাবনার দ্বারও উন্মোচন করে দিলো মানুষের। মানুষ শিখে নিলো কি করে ঘুরে দাঁড়াতে হয়, কীভাবে মানুষই শতাব্দী ধরে টিকে আছে লড়াই করে।’

শুক্রবার (১৩ নভেম্বর) বাচিক শিল্পচর্চা কেন্দ্র কণ্ঠনীড়ের ছয় বছর পূর্তির অনুষ্ঠানে অতিথিরা এ কথা বলেন।

সীমিত পরিসরে এবং যথাযথ স্বাস্থবিধি মেনে প্রমা মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের শিরোনাম ছিল ‘আমরা করবো জয়’।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কানিজ ফাতেমা হীরার সঞ্চালনায় স্মৃতিচারণ, কথামালা ও আবৃত্তি দিয়ে জন্মদিনের আয়োজনে দীর্ঘ দিন পর মঞ্চে ফিরলো কণ্ঠনীড়। সকল সংকট কাটিয়ে সামনে এগিয়ে যাবার সম্মিলিত কণ্ঠে উচ্চারিত হলো, ‘আমরা করব জয়’।

স্বল্প সংখ্যক দর্শকের উপস্থিতিতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বরেণ্য আবৃত্তিশিল্পী রাশেদ হাসান, কবি ও সংগঠক জিন্নাহ চৌধুরী, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক আবৃত্তিশিল্পী দেবাশীষ রুদ্র, সম্মিলিত আবৃত্তি জোট চট্টগ্রামের সভাপতি আবৃত্তিশিল্পী হাসান জাহাঙ্গীর, সম্মিলিত আবৃত্তি পরিষদ চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক আবৃত্তিশিল্পী মাহাবুবুর রহমান মাহফুজ, বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা, চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি সাজ্জাত হোসেন, বিভাস আবৃত্তি সংগঠনের সভাপতি আবৃত্তিশিল্পী শামীমা শীলা এবং সংগঠক এম শাহাদাত নবী খোকা।

রাশেদ হাসান বলেন, ‘একটি আবৃত্তি সংগঠন শুধুমাত্র সংগঠন নয় , এটি একটি পরিবার। যে পরিবারের সবাই একত্রিত থাকে সুখে-দুখে, সংকটে এবং এ পরিবারের সাথে যুক্ত থাকে দেশের সকল আবৃত্তিশিল্পী ও সংগঠকেরা।’

কবি জিন্নাহ চৌধুরী বলেন, ‘করোনাকালীন সবচেয়ে বেশি সক্রিয় বাচিক শিল্পীরা। মানসিক অবসাদের ঘোর কাটাতে কবিতা ও এর আবৃত্তি মানুষকে কিছুটা হলেও প্রফুল্ল করেছে।’

আবৃত্তিশিল্পী হাসান জাহাঙ্গীর কণ্ঠনীড়ের অন্তর্জালে পরিচালিত অনুষ্ঠানগুলোর কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘মান ও আয়োজনের ভিন্নতায় প্রতিটি অনুষ্ঠানই শ্রোতাদের মন জয় করেছে।’

আবৃত্তিশিল্পী মাহবুবুর রহমান মাহফুজ ও সাজ্জাত হোসেন সে সময়ে করোনা আক্রান্ত হওয়ার এবং করোনা দুর্যোগে চট্টগ্রামের আবৃত্তি পরিবারের সহযোগিতা ও যূথবদ্ধ থাকবার কথা বারবার স্মরণ করেন।

কণ্ঠনীড়ের সভাপতি সেলিম রেজা সাগর স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘শিল্পকলার বারান্দায় বসে কিছু স্বপ্নবান তরুণের কিছু করার ইচ্ছে থেকেই জন্ম নিল কণ্ঠনীড়। আনন্দ-বেদনার মধ্য দিয়েই লেখা হয়ে গেল ছয় বছরের সময়গাঁথা। চট্টগ্রামের প্রায় সকল আবৃত্তি সংগঠন, আবৃত্তিশিল্পী, কবি, সংগঠক ও সংস্কৃতি কর্মী শুরু থেকেই আমাদের পাশে ছিলেন, এখনও আছেন এবং আমরা বিশ্বাস করি আজীবন থাকবেন।’

এই মহামারীর ভয় উপেক্ষা করে ভালোবাসার টানে যারা অনুষ্ঠানে এসেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং ধন্যবাদ জানান তিনি।

কণ্ঠনীড়ের উপস্থিত সদস্যদের মধ্য থেকে কয়েকজন স্মৃতিচারণ করে আবৃত্তি করেন কবিতা।

এ সময়ে দীপান্বিতা চৌধুরী কবি স্মরণজিৎ চক্রবর্তীর ‘শুভ জন্মদিন’, সামানজা নুরেন সুকুমার রায়ের ‘হাত গণনা’, শামীমা আক্তার কবি মাসুদ আলম বাবুলের ‘মানিনা’, তাজুল ইসলাম কবি আবু হেনা মোস্তাফা কামালের ‘ছবি’, জয়া রায় চৌধুরী কবি আর্যতীর্থ’র ‘বিকর্ণ’ কবিতা আবৃত্তি করেন।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ১৩ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে কণ্ঠনীড় বাচিক শিল্পচর্চা কেন্দ্র। ছয় বছরে ধরে নিয়মিতভাবে চলছে শুদ্ধ উচ্চারণ, আবৃত্তি ও উপস্থাপনা শেখার কর্মশালা। বিভিন্ন দিবস, ঋতু, কবিদের নিয়ে প্রতি বছর আয়োজিত হচ্ছে ধারাবাহিক অনুষ্ঠান ‘পলাশ রাঙ্গা ফাল্গুনে’, যারা বৃষ্টিতে ভিজেছিল, ‘হে আমার বিষণ্ন সুন্দর’, শিশিরের শব্দের মতন, ‘যারা তব শক্তি লভিল অন্তর মাঝে’, ‘জনকের নাম মুজিবুর’ এবং ‘এপার-ওপার এককণ্ঠ’।

সংগঠনের কর্মীদের সাপ্তাহিক আবৃত্তির ধারাবাহিক বৈঠকী আয়োজন ‘এ জীবন পূর্ণ করো’। করোনার সময়ে অনলাইনেও চলছে মঙ্গলবারতা, ও আলোর পথযাত্রী, সংগঠন কথন ও পাণ্ডুলিপির গল্প শিরোনামে ব্যতিক্রমধর্মী সাপ্তাহিক অনুষ্ঠান।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

Share This Post

আরও পড়ুন