সোমবার, ২৩ মে ২০২২, ০৫:১৮ পূর্বাহ্ন

অর্থ সংকটে বিপর্যয়ের মুখে দেশের মেগা প্রকল্প ‘পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প’

পরম বাংলাদেশ প্রতিবেদন
  • প্রকাশ : বুধবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৩৫৯ Time View

ঢাকা: পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প (পিবিআরএলপি) বর্তমানে দেশের অন্যতম মেগা ফাস্ট-ট্র্যাক প্রকল্প। বাংলাদেশ সরকার একই দিনে পদ্মা সেতু এবং এর রেলপথ উভয়ই উদ্বোধন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। কিন্তু, বর্তমানে তহবিল সংঙ্কট গোটা প্রকল্পটির সুষ্ঠু বাস্তবায়নে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থের অপর্যাপ্ততাকে কেন্দ্র করে প্রকল্পটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেড (সিআরইসি) এখন সঠিক সময়ের মধ্যে এ প্রকল্পের কাজ শেষ করা নিয়ে বিপর্যয়ের সম্মুখীন।

সিআরইসি প্রদত্ত তথ্য অনুসারে, ২০১৮ সালের জুন মাসের শেষ দিকে তারা কাজ শুরুর ক্ষেত্রে প্রাথমিক পেমেন্ট (মোবিলাইজেশন পেমেন্ট) পেয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ রেলওয়ের অভ্যন্তরীণ কারণে গত সেপ্টেম্বরের আগ পর্যন্ত তারা আর কোনো পেমেন্ট পায়নি। এ দীর্ঘ সময়কালে প্রকল্পের গতি সচল রাখার জন্য সিআরইসি বিভিন্ন ব্যাংক থেকে বৃহৎ অংকের ঋণ গ্রহণ করে।

সিআরইসি জানিয়েছে, বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃক প্রতিটি ইন্টেরিম বা অন্তর্বর্তীকালীন পেমেন্ট (আইপি) সম্পন্ন করতে তাদের প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি সময় লেগেছে। উদাহরণস্বরূপ, সিআরইসি জুন-সেপ্টেম্বর ২০২০ সময়কালের প্রকল্প ব্যয়ের জন্য আইপিসেভেন জমা দেয় ২০২০ সালের ২৭ অক্টোবর। কিন্তু বাংলাদেশ রেলওয়ে ব্যয়ের বৈদেশিক অংশের নিষ্পত্তি প্রসঙ্গে চীন এক্সিম ব্যাংককে নির্দেশনা দিতে ২০২১ এর ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কালক্ষেপণ করে, যখন অন্যদিকে প্রকল্পের স্থানীয় ব্যয়ের অংশটুকুও বাংলাদেশ রেলওয়ের যথাযথ পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের অভাবে আটকে রয়েছে। স্থানীয় ব্যয়ের নিষ্পত্তির পূর্বে চীন এক্সিম ব্যাংক যেহেতু বৈদেশিক অংশের নিষ্পত্তির করবে না, তাই ১১৫ দিনেরও বেশি অতিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও সিআরইসি আইপিসেভেনের জন্য কোনো টাকা পায়নি।

সিআরইসি দাবি করেছে, তারা কেবলমাত্র ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত সম্পাদিত কাজের জন্য টাকা পেয়েছে। ২০২০ এর জুলাই থেকে ২০২১ এর জানুয়ারি পর্যন্ত সময়কালে ব্যয়িত অর্থের যোগান প্রসঙ্গে এখনো অত্যন্ত ঢিমেতালে কাজ করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। বকেয়া মোট অর্থের পরিমাণ প্রায় ৪০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে গিয়ে ঠেকেছে।

এ অবস্থায়, প্রকল্পের কাজের জন্য প্রয়োজনীয় নির্মাণসামগ্রী কেনা এবং সাবকন্ট্রাকটর ও সাপ্লায়ারদেরকে সময়মতো তাদের পাওনা টাকা পরিশোধ করা সিআরইসির জন্য দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। ফলস্বরূপ, প্রকল্প বাস্তবায়নের গতিও কমে এসেছে এবং ব্যয়ের পরিমাণও ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সিআরইসির মতে, ২০২০ এর জুলাইয়ের মধ্যে তাদের ১০০ কোচ সরবরাহের কথা থাকলেও বাংলাদেশ রেলওয়ে এখনো পর্যন্ত কোচগুলো নির্মাণের কোনো নির্দেশনা দেয়নি। সিআরইসির পক্ষ থেকে একাধিকবার বাংলাদেশ রেলওয়েকে জানানো হয়েছে, এ কোচগুলো নির্মিত ও হস্তান্তর হতে দুই বছর সময় লাগবে।

সিআরইসি বলছে, ‘কোভিড-১৯ মহামারির কঠিন সময়ের মধ্য দিয়েও সিআরইসি পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের কাজ যথাসম্ভব নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে, কিন্তু এ জন্য সম্পৃক্ত প্রতিটি অংশীদারের পক্ষ থেকে যথাযথ সহযোগিতা কাম্য।’

নিউজ রিলিজ

Share This Post

আরও পড়ুন