শিরোনাম
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ে জরুরী রোগী ব্যবস্থাপনার দুই দিনের প্রশিক্ষণ শুরু চা শ্রমিক নেতা বাবুল বিশ্বাসের মৃত্যুতে চা শ্রমিক নেতাদের শোক প্রকাশ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপর ভ্যাট চায় না চট্টগ্রাম সিটি ছাত্রদল বিডার কাছে ব্যবসায় সহজীকরণের উদ্যোগ চায় বিজিএমইএ মিরসরাই বঙ্গবন্ধু শিল্প নগরে বেপজার প্লট পেল বঙ্গ প্লাস্টিকসহ দেশি বিদেশি দশ প্রতিষ্ঠান ভারতীয় ভেরিয়েন্ট দেশে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ডে উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনে কাউন্সিলর শহিদুল আলম টেকনাফে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ৮০০ পিস আন্দামান গোল্ড বিয়ার জব্দ প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা তহবিলে এক কোটি টাকা অনুদান দিল চট্টগ্রাম চেম্বার প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেনের ছুটি বাড়ল ৩০ জুন পর্যন্ত
সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ০২:৫৩ পূর্বাহ্ন

অভিব্যক্তিমূলক মনোবিশ্লেষণধর্মী সৃজনশীল কলাবিদ্যা `এক্সপ্রেসিভ সাইকোথেরাপি’র দর্শন ও প্রয়োগ প্রক্রিয়া

মোস্তফা কামাল যাত্রা / ২২০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২১
মোস্তফা কামাল যাত্রা

মোস্তফা কামাল যাত্রা: বর্তমান বিশ্বে বিগত এক শতাব্দী সময়কাল ধরে সৃজনশীল শিল্পকলার মনোবিশ্লেষক অভিব্যক্তিধর্মী কলাবিদ্যার প্রয়োগ কার্যকরভাবে অনুশীলিত হচ্ছে। মনোবৈজ্ঞানীক দিক থেকে মনোবিশ্লেষক অভিব্যক্তিধর্মী কলাবিদ্যার এ প্রয়োগ প্রক্রিয়ার মৌলিকত্ব হল- অভিনব এবং অনন্য। যার ভিত্তি হচ্ছে একশন থেকে রি-একশন এবং তার ধারাবাহিকতায় কো-ক্রিয়েশন।

এ ক্রিয়াত্মক কর্মশৈলীত্রয়কে এ ধারার মনোবিশ্লেষণ পদ্ধতিতে দলীয়ভাবে সৃজনশীল শিল্পযজ্ঞের অভিব্যক্তিপূর্ণ অনুশীলনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের অন্তর্জগৎকে উন্মোচিত করতে সহায়তা করা হয়ে থাকে।

প্রথমত এ ধারার মনোবিশ্লেষক অধিবেশনে (সেশন) একজন অংশগ্রহণকারী প্রাসঙ্গিক একটি একশন করে থাকে। যার বিপরীতে দ্বিতীয় ধাপে অপরাপর অংশগ্রহণকারীরা প্রতিক্রিয়া হিসাবে একটি রি-একশন প্রদর্শন করে। যাকে পর্যালোচনা সাপেক্ষে তৃতীয় ধাপে- অংশগ্রহণকারীরা সম্মিলিত প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করতে সমর্থ হন। যাকে বলা হয়ে থাকে কো-ক্রিয়েশন।

উল্লেখিত স্বতস্ফূর্ত ও সৃজনশীল সমন্বিত ক্রিয়াত্বক উপস্থাপনা অভিব্যক্তিমূলক মনোবিশ্লেষণধর্মী এ বিকল্প ধারার শিল্পযজ্ঞ পর্যায়ক্রমিক চক্রাকার আবর্তনের মধ্য দিয়ে চলতে থাকে। অর্থাৎ কো-ক্রিয়েশন পর্যায়ের পর্যালোচনা থেকে সৃষ্টি হয় নতুন একশন এবং তা পুনঃরায় সৃষ্টি করে নবতর রি-একশন এবং সেই রি-একশনকে উপজীব্য করে গড়ে ওঠে নবতর কো-ক্রিয়েশন পর্ব।

অনুপর্বিক এ মনোবৈজ্ঞানিক সৃজনশীল অভিব্যক্তিধর্মী ত্রিমাত্রিক অধিবেশনকে বলা হয়ে থাকে গ্রুপ সাইকোথেরাপি। আর যেহেতু অংশগ্রহণকারীদের অভিব্যক্তিকে প্রধানতম অনুষঙ্গ বিবেচনা করে সৃজনশীল ক্রিয়াত্বক শিল্পযজ্ঞের মধ্যে দিয়ে এ ধারার অধিবেশন পরিচালিত হয়- সেহেতু তাকে বলা হয় ‘এক্সপ্রেসিভ সাইকোথেরাপি (সাইকোড্রামা, সোসিওড্রামা, প্লেবেক থিয়েটার, ড্রামা থেরাপি, ডান্স থেরাপি, মুভমেন্ট থেরাপি, ব্রিদিং থেরাপি, মিউজিক থেরাপি, আর্ট থেরাপি, পয়েট্রি থেরাপি, মাইম থেরাপি, প্লে থেরাপি, গেইম থেরাপি, সেডো থেরাপি, ক্লাউন থেরাপি, কালার থেরাপি ইত্যাদি)।

মূলত: এ যুথবদ্ধ শৈল্পীক প্রকাশধর্মিতায় অংশগ্রহণকারীদের অন্তরাত্মাকে প্রসন্ন করার মধ্য দিয়ে পারস্পরিক আন্তঃসস্পর্ক সুদৃঢ় করা হয়। ফলে অংশগ্রহণকারীদের মনো-দৈহিক ও মনো-সামাজিক অভিব্যক্তি হয়ে ওঠে প্রশান্ত। আর এ স্তরকে স্বায়িত্বশীলতা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই সম্পাদিত হয়ে থাকে আলোচ্য পর্যায় (একশন থেকে রি-একশন এবং রি-একশন থেকে কো-ক্রিয়েশন) ত্রয়ের পর্যায়ক্রমিক অভিব্যক্তিমূলক মনোবৈজ্ঞানিক অনুশীলন তথা ‘এক্সপ্রেসিভ সাইকোথেরাপি’ সেশন।’

এ অধিবেশনে (সেশন) অংশগ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্ততা ও সৃজনশীলতার মাত্রা বিশ্লেষণ থেকে দেখা যায় যে- সম্মিলিতভাবে তারা তাদের আবেগ, অনুভূতি ও অভিজ্ঞতাকে অভিব্যক্তি আকারে উপস্থাপন বা প্রদর্শন করে। যেখানে অংশগ্রহণকারীরা ‘পুরানো পরিস্থিতির প্রতি একটি নতুন সাড়া’ হিসাবে যেমনি তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে; তেমনি ‘নতুন পরিস্থিতির প্রতি একটি যথার্থ সাড়া’ হিসাবে সু-সমন্বিত প্রদর্শনমূলক ভাব প্রকাশ করে থাকে। যাকে বিশ্লেষকগণ মনোবিশ্লেষণধর্মী অভিব্যক্তিমূলক সৃজনশীল কলাবিদ্যা তথা ‘এক্সপ্রেসিভ সাইকোথেরাপি’র দর্শন হিসাবে মান্যতা দিয়েছেন।

যে দর্শনের উপর নির্ভর করে ‘এক্সপ্রেসিভ সাইকোথেরাপি’র প্রয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়। সেখানেও পর্যায়ক্রমে তিনটি স্তর অবশ্য-অবশ্যই অনুসরণ করতে হয়। সেগুলো হল- ওয়ার্ম আপ, একশন ও শেয়ারিং।

যদিও প্রচলিত কাউন্সিলিং বা সাইকোথেরাপির প্রয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়ে থাকে শেয়ারিং স্তর দিয়ে। কিন্তু আলোচ্য ‘এক্সপ্রেসিভ সাইকোথেরাপি’র প্রয়োগ প্রক্রিয়ায় এ স্তরটি ঘটে থাকে সবার শেষে। যাতে অংশগ্রহণকারীরা লাভ করে নতুন ও বৈচিত্রময় অনুধাবন। প্রাপ্ত সমন্বিত ও বহিমাত্রিক অভিব্যক্তিগুলো থেকে অংশগ্রহণকারী নির্বাচন করে থাকে তার জন্য প্রযোজ্য সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিকদর্শন।

অংশগ্রহণমূলক সৃজনশীল ও অভিব্যক্তিমূলক বর্ণিত প্রক্রিয়ায় প্রযুক্ত স্তর (ওয়ার্ম আপ, একশন ও শেয়ারিং) ত্রয় অংশগ্রহণকারীদের মনোবিশ্লেষণে একটি স্বতঃস্ফূর্ত অভিপ্রায় নির্বাচনের সুযোগ সৃষ্টি করে। সম-সমস্যায় থাকা বিভিন্ন পরিস্থিতির ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নবতর সম্মিলিত সৃজনশীল মনোবিশ্লেষক অভিব্যক্তিগুলোর মূল্যায়নপূর্বক অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ব্যক্তিক পর্যালোচনার জন্য বহুমূখী ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়। যেখান থেকে ব্যক্তি তার জন্য প্রযোজ্য যথার্থ ও যৌক্তিক কার্যকারণটি বেছে নিতে সমর্থ হন। স্মরণীয় যে, বর্ণিত প্রয়োগ প্রক্রিয়া সম্পাদিত হয়ে থাকে প্রারম্ভিক কথনে আলোকপাতকৃত দর্শনের ভিত্তিতে।

লেখক: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের অতিথি শিক্ষক, কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির `এক্সপ্রেসিভ সাইকোথেরাপি‘ কোর্সের সমন্বয়ক

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ