ঢাকাবৃহস্পতিবার, ৮ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে চট্টগ্রাম শহর

চট্টগ্রাম
সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২২ ৭:৪৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

চট্টগ্রাম: ‘বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়তে দরকার নিরাপদ, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর মহা পরিকল্পনা। ইতিমধ্যে দেখা যাচ্ছে, মহা পরিকল্পনা অনুযায়ী উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত না হওয়ায় চট্টগ্রাম শহর অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে। যে যেভাবে পারছে, নিজেদের মত উন্নয়ন পরিচালনা করছে ও এর নেতিবাচক ফল ভোগ করতে হচ্ছে নাগরিকদের। এ অবস্থা থেকে বের হতে হলে সব সেবা সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। শুধু মহা পরিকল্পনা করলেই চলবে না, তার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নও করতে হবে।’

বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) সম্মেলন কক্ষে ‘নিরাপদ, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর মহা পরিকল্পনা’ শীর্ষক অংশীজন সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। সিডিএ এবং চট্টগ্রামের বিভিন্ন বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থার জোট চট্টগ্রাম আরবান নেটওয়ার্কের উদ্যোগে নগর বিশেষজ্ঞ, পরিকল্পনাবিদ, স্থপতি ও প্রকৌশলী, সুশীল সমাজ প্রতিনিধি, উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, শিশু-নারী-যুব ও গণ মাধ্যমকর্মীদের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ গ্রহণের উদ্দেশ্যে এ সভা আয়োজিত হয়। সভা আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা করে সেভ দ্য চিলড্রেন, ইপসা ও ইউএনডিপি।

বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অফ প্ল্যানারসের (বিআইপি) সাবেক সভাপতি আকতার মাহমুদের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সিডিএর চেয়ারম্যান এম জহিরুল আলম দোভাষ।

তিনি বলেন, ‘সিটির বিগত মাস্টারপ্ল্যানগুলোর ভুলত্রুটিগুলো চিহ্নিত করে একটি নতুন মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করার প্রয়োজন। ফের এ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করতে গিয়ে সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে কিছু গাইডলাইনও পরিবর্তন করার প্রয়োজন হয়।’

উদাহরণস্বরূপ জহিরুল আলম বলেন, ‘১৯৯৫ সালের মাস্টারপ্ল্যানে বে-টার্মিনাল ও বিভিন্ন ফ্লাইওভার কথা উল্লেখ না থাকলেও যোগাযোগ খাত উন্নয়নের খাতিরে এসব প্রকল্প নেয়া প্রয়োজন হয়েছে।’

এছাড়া সিডিএর প্রশাসনিক কাজ সঠিকভাবে সম্পাদন করার জন্য তিনি বর্তমান সিডিএর অর্গানোগ্রাম পরিবর্তন করে চট্টগ্রাম শহরের উন্নয়ন কাজ সঠিকভাবে মনিটরিং করার জন্য চউকের লোকবল বাড়ানোর অঙ্গিকার করেন। সিডিএ’র মাস্টার প্ল্যানের সফল বাস্তবায়নে চট্টগ্রাম সিটির সব সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সাথে সব স্তরের জনগণকে অংশ নেয়ার আহবান জানান তিনি।

সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস্ বলেন, ‘চট্টগ্রাম সিটি পূর্বে খেলার মাঠ, উন্মুক্ত ময়দান ও বিভিন্ন পার্কের সমন্বয়ে একটি পরিপূর্ণ সিটি ছিল। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা ও প্রভাবশালীর প্রভাবে চট্টগ্রাম সিটি দিন দিন বদ্ধ সিটি পরিণত হচ্ছে।’

এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি দুই দশমিক পাঁচ মিটারের কমে যে কোন রাস্তার পাশে তিন তলার অধিক উচ্চ ভবন নির্মাণ করাকে নিরুৎসাহিত করেন।

সভায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মাস্টার প্ল্যান সম্পর্কিত প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিডিএ’র উপ নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আবু ঈসা আনছারী ও চট্টগ্রাম সিটির আপদকালীন পরিকল্পনা নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সহকারী অধ্যাপক মো. শাহজালাল মিশুক।

সভায় বিশেষ অতিথি স্থপতি ইন্সটিটিউশনের চেয়ারম্যান আশিক ইমরান। বিশেষজ্ঞ মতামত দেন ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউটের সাবেক চেয়ারম্যান দেলোয়ার মজুমদার, চুয়েটের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মুহাম্মাদ রাশিদুল হাসান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আইন বিভাগের অধ্যাপক এবিএম আবু নোমান, দৈনিক প্রথম আলোর বার্তা সম্পাদক ওমর কায়সার, ঘাসফুলের চেয়ারম্যান মনজুর উল আলম চৌধুরী, আইইবির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল আলম।

সভায় মতামত রাখেন সিডিএর সচিব মুহাম্মদ আনোয়ার পাশা, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) কাউন্সিলর মো. মোবারক আলী ও মো. জহিরুল আলম জসিম, ইপসার পরিচালক পলাশ চৌধুরী, ইলমার নির্বাহী পরিচালক জেসমিন সুলতানা পারু, সেভ দ্য চিলড্রেনের ম্যানেজার সায়মন রহমান, ইউএনডিপির টাউন ম্যানেজার মো. সারোয়ার হোসেন খান, ব্রাইট বাংলাদেশ ফোরামের প্রধান নির্বাহী উৎপল বড়ুয়া, ডিএসকের প্রজেক্ট ম্যানেজার আরেফাতুল জান্নাত, মমতার সিনিয়র ডিরেক্টর স্বপ্না তালুকদার প্রমুখ।

Facebook Comments Box