সোমবার, ০৪ জুলাই ২০২২, ১২:১১ পূর্বাহ্ন

অটোমোবাইল খাতের বিকাশকে ত্বরান্তিত করতে হালকা প্রকৌশল শিল্পকে এগিয়ে আসতে হবে

পরম বাংলাদেশ ডেস্ক
  • প্রকাশ : রবিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২১
  • ১১৩ Time View

ঢাকা: বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে অটোমোবাইল শিল্প খাতের যন্ত্রাংশ উৎপাদনে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী শিল্প-কারখানা স্থাপনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন শিল্প মন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন।

তিনি বলেন, ‘দেশকে উন্নয়নের সর্বোচ্চ বা বৃহত্তর পর্যায়ে পৌঁছাতে আমাদের সরকার শিল্পায়ন ও শিল্পের বিকাশের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দেশে শিল্পানের জন্য আমরা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শিল্প বিনিয়োগের সুবিধার্থে সব প্রকার সহায়তা দিচ্ছি। দেশে উৎপাদিত পণ্যের উৎপাদন ও রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমাদের সরকার শিল্পনীতি সহায়তাসহ সব প্রকার সহযোগিতা করে আসছে। গবেষণা ও উদ্ভাবন অটোমোবাইল শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি অন্য মিত্র/সহায়তা শিল্পগুলোকে বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।’

অটোমোবাইল খাতের সার্বিক উন্নয়নে শিল্প ও শিক্ষা খাতের সমন্বয় খুবই জরুরী বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘অটোমোবাইল শিল্পের উন্নয়ন: বর্তমান বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা’ ওয়েবিনারে শিল্পমন্ত্রী রোববার (১৮ এপ্রিল) এসব কথা বলেন।

ডিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট রেজওয়ান রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইফাদ গ্রুপের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসকিন আহমেদ। বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নওকি ওয়েবিনারে অতিথি ছিলেন।

এতে অন্যদের মধ্যে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের অর্থনৈতিক ও ইন্দো-প্যাসিফিক বিষয়ক ইউনিটের প্রধান জন ডি. ডানহাম, প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তৌহিদুজ্জামান, উত্তরা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মতিউর রহমান, বারভিডার প্রেসিডেন্ট আব্দুল হক, জাইকা প্রতিনিধি হায়াকাহ ইউকো বক্তব্য রাখেন।

ডিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি এনকেএ মবিন, মনোয়ার হোসেন ওয়েবিনারে যোগ দেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্প মন্ত্রী আরো বলেন, ‘২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজির লক্ষ্যেমাত্রায় পৌঁছানো এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশে পরিণত হতে সর্বাক্ষণিক শিল্প কারখানার চালু রাখার কোনো বিকল্প নেই। ক্রমবর্ধমান আয় জনগণের নিরাপদ যানবাহন হিসেবে ব্যক্তিগত যানবাহনের চাহিদা বৃদ্ধির পাশাপাশি আধুনিক সুবিধা সম্বলিত যানবাহন ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। মানুষের এখন ব্যক্তিগত গাড়ি ক্রয় করার সামর্থও বেড়েছে। অটোমোবাইল নির্মাতারা স্থানীয় উৎপাদনের জন্য শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনের অগ্রাহও বেড়েছে। এসব কিছু বিবেচনায় রেখে আমরা খুব তাড়াতাড়িই অটোমোবাইল শিল্প উন্নয়ন নীতিমালা চূড়ান্ত করব।’

জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নওকি বলেন, ‘অনেক দেশের শিল্পায়নে অটোমোবাইল খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, বিশেষ করে জাপানে এখাতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে অটোমোবাইল শিল্প উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে এবং বাংলাদেশের সেই উদাহরণ অনুসরণের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।’

রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাংলাদেশের অটোমোবইল খাতের বিকাশকে ত্বরান্তিত করতে হালকা প্রকৌশল শিল্পকে এগিয়ে আসতে হবে।’

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, ‘দীর্ঘ মেয়াদী নীতিমালায় অভাব, সহায়ক শুল্ক কাঠামো না থাকা, স্থানীয়ভাবে পর্যাপ্ত কাঁচামালের যোগান না থাকা, দক্ষ মানবসম্পদ ও বেকওয়ার্ড লিংকেজ খাতের অনুপস্থিতির কারণে আমাদের অটোমোবাইল শিল্পে কাঙ্খিত প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হচ্ছে না। এখাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য শিল্প মন্ত্রণালয় ১০ বছর মেয়াদী ‘বাংলাদেশ অটোমোবাইল সেক্টর রোডম্যাপ ২০২১-২২’ এবং ‘অটোমোবাইল-ম্যানুফেকচারিং ডেভেলপমেন্ট পলিসি’র খসড়া প্রস্তুত করেছে, যা দ্রুত সময়ের মধ্যে চূড়ান্তকরণ করা একান্ত অপরিহার্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নিউজ রিলিজ

Share This Post

আরও পড়ুন