ঢাকাবুধবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

অক্সফোর্ড-এস্ট্রাজেনেকা টিকার প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ নিয়েও করোনায় আক্রান্ত

পরম বাংলাদেশ প্রতিবেদন
জুলাই ১, ২০২১ ৬:৪৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

চট্টগ্রাম: বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও চাঁদপুর অঞ্চলে অক্সফোর্ড-এস্ট্রাজেনেকা প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ টিকা গ্রহণকারী ও অগ্রহণকারী করোনা আক্রান্ত রোগীদের তুলনামূলক স্বাস্থ্যঝুঁকির মূল্যায়ন নিয়ে পরিচালিত গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু)। সিভাসুর উপাচার্য প্রফেসর ড. গৌতম বুদ্ধ দাশের নেতৃত্বে এক দল গবেষক দুই মাস ধরে এ বিষয়ে গবেষণা করেন।

গবেষণায় তারা চট্টগ্রাম ও চাঁদপুর অঞ্চলে অক্সফোর্ড-এস্ট্রাজেনেকা টিকা গ্রহণকারী ও টিকা গ্রহণ না করা কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের তুলনামূলক স্বাস্থ্যঝুঁকির মূল্যায়ন করেন। সিভাসু ও চাঁদপুর কোভিড-১৯ শনাক্তকরণ ল্যাবে গত ২২ এপ্রিল থেকে ২২ জুন পর্যন্ত মোট ১২ হাজার ৯৩৬ ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষা করা হয়, যার মধ্যে ২ হাজার ১৩৭ (১৬ দশমিক ৫২ শতাংশ) জনের শরীরে সার্স-কভ-২ (SARS-CoV-2) বা নোভেল করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। ওই কোভিড-১৯ পজিটিভ ব্যক্তিদের মধ্যে কন্টাক্ট ট্রেসিংয়ের মাধ্যমে মোট ১ হাজার ৯৫ জনের স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট সমস্ত তথ্য ও উপাত্ত সম্পূর্ণরূপে পর্যবেক্ষণ করে গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

গবেষণায় দেখা যায়, আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ৯৬৮ জন করোনার টিকা গ্রহণ করেন নি। অন্য দিকে, ৬৩ জন এমন ব্যক্তি পাওয়া যায়, যারা বিভিন্ন সময়ের মধ্যে নির্ধারিত স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে অক্সফোর্ড-এস্ট্রাজেনেকার কোভিশিল্ডের শুধুমাত্র প্রথম ডোজ টিকা গ্রহণ করেছেন এবং ৬৪ জন প্রথম ও দ্বিতীয় উভয় ডোজ টিকা গ্রহণ করেছিলেন।

গবেষণায় আরো পাওয়া যায়, সংগৃহীত সব নমুনার মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ টিকা গ্রহণকারীদের করোনায় আক্রান্তের হার মোট নমুনা পরীক্ষার যথাক্রমে শুন্য দশমিক ৪৮ এবং শুন্য দশমিক ৪৯ শতাংশ ছিল।

গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, করোনার টিকা না নেওয়া রোগীদের মধ্যে ১৩৭ জনের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন হয়েছে। যেখানে প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ টিকা গ্রহণকারীদের মধ্যে যথাক্রমে ৭ জন ও ৩ জন রোগীকে হাসপাতালে যেতে হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তিকৃত টিকা অগ্রহণকারী রোগীদের ৮৩ জনের মধ্যে শ্বাসকষ্ট পরীলক্ষিত হয় এবং তাদের মধ্যে ৭৯ জনের অতিরিক্ত অক্সিজেন সাপোর্টের প্রয়োজন হয়। শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে অক্সিজেন স্যাচুরেশনের মাত্রা সর্বনিম্ন ৭০ শতাংশ পরীলক্ষিত হয়।

অপর দিকে, টিকা গ্রহণকারী রোগীদের অক্সিজেন স্যাচুরেশন স্বাভাবিক (৯৬ দশমিক ৭ শতাংশ) পাওয়া যায়। টিকা অগ্রহণকারী হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগীদের মধ্যে ৭ জনের আইসিইউ সেবার প্রয়োজন হয়। অপর দিকে, টিকা গ্রহণকারী রোগীদের কোন ধরণের আইসিইউ সেবার প্রয়োজন হয়নি। টিকা অগ্রহণকারী রোগীদের মধ্যে শ্বাসকষ্টের সময়কাল সর্বোচ্চ ২০ দিন পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হয়েছে।

গবেষণায় পাওয়া যায়, যে মোট ১০ জন করোা আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছে, তারা কেউই প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ টিকা গ্রহণ করেননি।

গবেষণায় আরো দেখা যায়, যে সব টিকা অগ্রহণকারী করোনা রোগী আগ থেকে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় (কো-মরবিডিটি) ভুগছিলেন, তাদের মধ্যে করোনার সংক্রমণের হার ছিলো ৭৬ দশমিক ৭ শতাংশ, যা টিকা গ্রহণকারীদের মধ্যে প্রায় ১২ শতাংশ পরীলক্ষিত হয়।

গবেষণার ফলাফল থেকে জনসাধারণের কাছে এ ইতিবাচক বার্তা উপস্থাপন করা যায় যে, সরকার কর্তৃক যে টিকা বিনামূল্যে দেয়া হচ্ছে, এটি টিকা গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে ফের করোনা আক্রান্তের হার নিন্মমুখী করার পাশাপাশি কেউ যদি করোনায় আক্রান্ত হয়, তবে নিঃসন্দেহে তার মৃত্যুঝুঁকি কমাবে বলে আশাবাদী। এছাড়াও টিকা অগ্রহণকারীদের মধ্যে যারা হাসপাতালে ভর্তি হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদের অধিকাংশেরই বয়স পঞ্চাশ বছরের বেশি ছিল।

তাই, টিকা প্রয়োগের ক্ষেত্রে দেশের জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের (সিনিয়র সিটিজেন) প্রাথমিকভাবে টিকার আওতায় আনা গেলে করোনার স্বাস্থ্য এবং মৃত্যুঝুঁকি অনেংকাংশে কমে আসবে বলে গবেষকরা উপলব্ধি করেন। এ ধরনের উচ্চ গবেষণা বড় পরিসরে পরিচালনা করার মাধ্যমে টিকা প্রয়োগের পরে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি হ্রাসের বিশদ তথ্য পেতে সহায়ক হবে, যা বিশ্বব্যাপী জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

গবেষণা দলের অন্য সদস্যরা হলেন প্রফেসর ড. শারমিন চৌধুরী, ডাক্তার মোহাম্মদ খালেদ মোশাররফ হোসেন, ডাক্তার ইফতেখার আহমেদ রানা, ডাক্তার ত্রিদীপ দাশ, ডাক্তার প্রনেশ দত্ত, ডাক্তার মো. সিরাজুল ইসলাম, ডাক্তার তানভীর আহমদ নিজামী।

Facebook Comments Box